‍বিক্ষোভের মুখে আটক ১ খুলনায় রেলের ডিজিটাল স্ক্রিনে ‘শেখ হাসিনা ফিরবে’

১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:৩৫  

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের ডিজিটাল ডিজিটাল বিলবোর্ডের স্ক্রলিংয়ে আপত্তিকর লেখাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম আসলাম হোসেন সেন্টু। আটক ব্যক্তিটি নগরীর সিমেট্রি রোডের ত্রিপোলি সাইন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী।

স্থানীয় ছাত্র-জনতা জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে খুলনা রেলস্টেশনের ডিজিটাল বিলবোর্ডের স্ক্রোলিংয়ে ‘ছাত্রলীগ আবার ভয়ংকর রূপে ফিরবে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা আবার আসবে’ এমন একটি লেখা প্রকাশ করা হয়। পতিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রচারণার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে রাত সাড়ে ৮টায় বিক্ষোভের মুখে তাকে আটক করেছে পুলিশ।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রেল স্টেশনের মাস্টারকে অবরুদ্ধ করে রাখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ভিডিওতে দেখা যায়, খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের ডিজিটাল স্ক্রিনে লেখা, ছাত্রলীগ আবার ভয়ংকর রূপে ফিরে আসবে; জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু; শেখ হাসিনা আবার আসবে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলস্টেশনের অবস্থান নেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতা। এ সময় তাদেরকে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। এদিকে প্রায় একই সময় নগরীর বয়রাস্থ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের স্ক্রিনেও একই ধরনের ভিডিও ভাইরাল হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর রেলস্টেশনের প্রবেশপথের ডিসপ্লেতে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষের নানা স্লোগান প্রদর্শিত হতে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে প্রদর্শিত হয় এসব স্লোগান। ঘটনাটি সেখানে চলাচলরত যাত্রী ও সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়লে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দ্রুত আশপাশ এলাকায় এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক সেখানে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এসময় খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি সাজেদুল ইসলাম বাপ্পি, মো. নাজমুল হোসেন ইমরান, সুমাইয়া বান্না ও রুমি রহমানসহ শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তারা বলেন, একটি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে এ ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান প্রদর্শন করার পেছনে স্টেশনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী জড়িত।

খুলনা রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, সন্ধ্যার দিকে আমরা ম্যাসেজ পেয়েছি এখানে ডিজিটাল স্ক্রলিংয়ে বাজে একটা লেখা আসছিল। দেখার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেটি বন্ধ করে দেয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আমরা পেয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। জানতে পারি আসলাম হোসেন ওরফে সেন্টু নামে একজন এটি কন্ট্রোল করে, স্থানীয় জনতা ও রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে রাখে। আমরা এখানে এসে তাকে হেফাজতে নিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃতপক্ষে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।